
পটুয়াখালীর বাউফলে কর্মরত যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টারকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী সাংবাদিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাউফল থানায় একটি জিডি রুজু হয়েছে।
হুমকি কথোপকথনে ওই পুলিশ সদস্য নিজের পরিচয় গোপন রাখলেও মুঠোফোন নম্বরের সাহায্যে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রাও পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন হাওলাদার। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত একজন কনস্ট্যাবল এবং তিনি বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের রাবাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনীতি করেন।
জানা গেছে, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি রইসুল ইসলাম ইমন উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকায় ‘মুজিব কেল্লা’ নামক আশ্রয়ন প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই প্রকপ্লের কাজ করছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিনের চাচা ও ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ রিপন হাওলাদার। চাচার ঠিকাদারি কাজের অনিয়ম খোঁজায় ক্ষিপ্ত হয় তিনি। পরে তিনি ১০ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করে হুমকি দিয়ে আসছেন।
মুঠোফোনের কল রেকর্ডে শোনা যায়, দীর্ঘ সময়ের কথোপকথন জুড়ে পুরাটা সময় পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিন নানা মুখী হুমকি দেন। একপর্যায়ে হাত পা ভেঙে দেওয়াসহ হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনা প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। বাউফল রিপোর্টারস ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একজন পুলিশ সদস্য যদি এভাবে সাংবাদিককে হুমকি দেয়, তাহলে বিষয়টা সত্যি উদ্বেগজনক। স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা মুখে বললে হবে না, বাস্তবায়ন করতে সরকারের কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরিফ বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেড়িয়ে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, বিষয়টা দুঃখজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই পুলিশ সদস্যের অপসারণ দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ###