
পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির ঘোষিত দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। প্রার্থী পরিবর্তন ও পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৭টায় কাচিপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাহেরচর বাজার এলাকায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাজার এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আলী স্বপন। তিনি বলেন,
“বাউফল আসন নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও প্রত্যাশা আছে। মনির ভাই ১৭ বছর কারাবরণ ও নির্যাতন সহ্য করে মাঠে ছিলেন। মনোনয়ন যেন পণ্য নয়—বরং ত্যাগ, অবদান ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। বর্তমান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে তৃণমূলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরও বাড়বে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাছিপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুলাল খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সিহাব সিকদার, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল খন্দকার দিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ–সভাপতি রাসেল ফকির, দপ্তর সম্পাদক হাবিব মল্লিক, যুবদলের সদস্য বাদশা সরদার এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সুমন খন্দকার।
বক্তারা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন ঘোষণা করায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি—বাউফল বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন–সংগ্রামে যাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, তাঁদের মূল্যায়ন না করায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার।
অন্যান্য আসনের তুলনায় বেশ কয়েক দফা আলোচনার পর গত ৪ ডিসেম্বর দলের সিদ্ধান্তে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষণার পরপরই অপর দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং বিক্ষোভ শুরু হয়।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, তৃণমূলের মতামত যাচাই না করেই এই ঘোষণা দেওয়ায় দলের ভেতরে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত পূর্নবিবেচনার আহ্বান জানান।